Filter by price
Showing all 7 results
অশ্রুজলে লেখা
আমাদের যাপিত জীবনে ইসলামি মূল্যবোধের উপস্থিতি ঠিক কত খানি? প্রাত্যহিক জীবনে ঠিক কতটুকু আমরা আমাদের মৃত্যু আর পরকাল নিয়ে ভাবি? অথচ এসবকে ঘিরেই আমাদের নিত্য দিনের কার্যকলাপ প্রভাবিত হয়। হৃদয়ে আল্লাহভীতি তৈরি হয়। আমাদেরকে মৃত্যুর কথা স্মরণ করিয়ে দেবে, পরকালের কথা মনে গেঁথে দেবে জীবন-ঘনিষ্ঠ এমন কিছু বাস্তব ঘটনার গল্প নিয়েই ‘অশ্রুজলে লেখা’ বইটির আয়োজন। এতটুকু দৃঢ়তার সাথেই বলা যায়—যেকোনো পাঠকের হৃদয়কেই বইটির সার্বিক বিষয়বস্তু দারুণভাবে স্পর্শ করবে। শুধু তা-ই নয়, জীবনে চলার পথেও অনুপ্রেরণা হিসেবে কাজ করবে, ইনশাআল্লাহ।
গল্পগুলো অন্যরকম
জীবনকে তুলনা করা যায় নদীর সাথে। নদী যে মোহনায় থামে, সেখানেই জন্ম দেয় নতুন গল্পের। নদীর প্রতিটি কল্লোল যেন একেকটি গল্প। প্রতিটি বাঁক একেকটি উপাখ্যান। অথবা, জীবনকে আমরা একটি শ্রাবণমুখর সন্ধ্যাও বলতে পারি—যেখানে ঝুম-বৃষ্টির শব্দ শোনায় গল্পের মতো, ঝিরিঝিরি স্নিগ্ধ বাতাসকে গল্পের কাহিনির মতো লাগে জীবন্ত। জীবন কি তাহলে বয়ে চলা কোনো নদী কিংবা আকাশ ভেঙে ঝরঝর করে নেমে আসা কোনো শ্রাবণ-দিনের বৃষ্টি? জীবন কি নিছক উথাল-পাতাল কোনো তরঙ্গের ভেলকি কিংবা গা শীতল করা কোনো স্নিগ্ধ বাতাসের সুর? না। জীবন এর চেয়েও বেশিকিছু। জীবন এর চেয়েও বেশি দুরন্ত, বেশি চঞ্চল আর বেশি আকস্মিক। জীবনের কাছে মাঝে মাঝে গল্পও তুচ্ছ হয়ে যায়। মাঝে মাঝে জীবন রূপকথার চেয়েও বেশি অবিশ্বাস্য হয়ে ওঠে। জীবনের বাঁকে বাঁকে, মোড়ে মোড়ে, ঘটনা-প্রতি-ঘটনায় জন্ম নেয় হৃদয়ের আকুতি-মিনতি, প্রেম-ভালোবাসা, সুখ আর দুঃখ। এজন্যেই জীবন দুরন্ত, দুর্বিনীত ও চঞ্চল। এজন্যেই জীবন অন্যরকম। সেই অন্যরকম জীবনে জন্ম নেওয়া একগুচ্ছ গল্প দিয়েই সাজানো ‘গল্পগুলো অন্যরকম’ বইটি…
জীবন যেখানে যেমন
স্বনামধন্য লেখক আরিফ আজাদ একজন আলাের ফেরিওয়ালা। বিশ্বাসের দর্শন দিয়ে লেখালেখির জগতে পা রাখা এই লেখক এবার হাজির হয়েছেন জীবনের কিছু গল্প নিয়ে। জীবনের পরতে পরতে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা গল্পগুলােকে লেখক তুলে এনেছেন তার শৈল্পিক রং-তুলিতে। আলাে থেকে স্ফুরিত হওয়া সেই অসাধারণ গল্পগুলাে যেমন জীবনের কথা বলে, তেমনই জীবনে রেখে যায় বিশ্বাসী মূল্যবােধের গভীর এক ছাপ।
জীবন যেখানে যেমন নিরেট গল্পের একটি বই। তবে কেবল গল্পের বই বলে একে মূল্যায়নের সুযােগ নেই। গল্পের ফাঁকে ফাঁকে লেখক তার পাঠকদের জন্য রেখে গিয়েছেন চিন্তার কিছু খােরাক। পাঠকের ভাবুক মন যদি সেগুলােয় নিবিষ্ট হয়, আমরা আশা করতে পারি, গল্পের পাশাপাশি তারা জীবনের কিছু উপকারী পাঠ কুড়িয়ে নিতে সক্ষম হবে। লেখক আরিফ আজাদ তার লেখনীশক্তির মুন্সিয়ানায়। গল্পগুলােকে প্রাণবন্ত করে তুলেছেন। এ কারণে প্রতিটি গল্পই হয়ে উঠেছে সুখপাঠের এক বিশাল আধার। এ বইতে পাঠকসমাজ নতুন এক আরিফ আজাদকে আবিষ্কার করবেন বলেই আমাদের বিশ্বাস।
পাঠকদের জ্ঞাতার্থে বলতে হচ্ছে, লেখক নিজস্ব বানান ও ভাষারীতি অনুসরণ করে থাকেন। ফলে বহুল ব্যবহৃত কিছু শব্দের অচেনা রূপ দেখে তারা বিভ্রান্ত হবেন না—এই কামনা। আল্লাহ আমাদের সবাইকে সত্য আর সুন্দরের পথে অবিচল রাখুন। আমিন।
তারাফুল
‘তারাফুল’ বইয়ের কিছু অংশঃ ঘটনাস্থল শাহজালাল বিমানবন্দরের লাউঞ্জ। রাত সাড়ে এগারোটা। কুয়ালালামপুরগামী ফ্লাইটের জন্যে অপেক্ষারত যাত্রীরা টার্মিনাল গেইটের আগে অপেক্ষাসনগুলোতে বসে আছেন। তাঁদের অনতিদূরে মোটামুটি নিরিবিলি একটা আসনে বসে স্যামুয়েল বাটলার পড়ছি। হঠাৎ ঝড়ের বেগে হাজির হলেন এক দম্পতি। এসেই আমার মুখোমুখি আসনে বসে গেলেন। তারপর শুরু হলো এক পশলা ঝগড়া। আশেপাশের সবাই হতভম্ব। মানুষটা মোটামুটি উচ্চৈঃস্বরে স্ত্রীকে বকছেন, তবে একটুচাপা কণ্ঠে। উভয়ের কথা কাটাকাটি থেকে যা বুঝলাম, এই নবদম্পতি হানিমুনে যাচ্ছেন। ফিরবেন তিনদিনের মধ্যে; কিন্তু তিনি স্ত্রীকে বলে রেখেছেন, কেউ যদি জিজ্ঞাসা করে ‘কয়দিন থাকবেন?’, তাহলে উত্তর যেন ‘সাতদিন’হয়। স্ত্রী সেকথা ভুলে গিয়েছেন। লাউঞ্জে বসে আরেক মহিলা তার স্ত্রীকে জিজ্ঞাসা করেছেন, তারা কোথায় এবং কয়দিনের জন্যে যাচ্ছেন। ভদ্রমহিলা সত্য কথাটাই বলে ফেলেছেন। এজন্যে হাজব্যান্ড মারাত্মক ক্ষুব্ধ। তার কথা হচ্ছে, তিন দিনের জন্যে বিদেশ যাওয়া হচ্ছে, এটা বললে বোঝা যায়, তার টাকা-পয়সা কম, এতে লোকজন আন্ডার স্টিমেইট করবে। সেজন্যে কয়েকদিন বাড়িয়ে বলতে চেয়েছেন, যাতে প্রশ্নকর্তা বোঝেন, ‘বাহ এরা তো বিত্তশালী!’ এতে তার প্রেস্টিজ বাড়ত; কিন্তু স্ত্রীর কারণে সেই প্রত্যাশা পূরণ হলো না। তাই একটু নিরিবিলিতে এসে ঝগড়াটা সেরে নিলেন…
একাত্তর হলে একই ব্লকের বাসিন্দা একজন ভাই, বিজনেস ফ্যাকাল্টির কোনো এক সাবজেক্টে পড়েন, মাঝেমধ্যে জামাআতে শরিক হন। হঠাৎ লক্ষ করলাম, তিনি প্রতি ওয়াক্তের জামাআতে একদম নিয়মিত হয়ে গেছেন। সুসম্পর্কের খাতিরে তাঁকে বেশ হার্দিক সুরেই বললাম, আপনাকে আল্লাহর ওয়াস্তে ভালোবাসি, হয়তো সেইজন্যেই আপনাকে নিয়মিত মসজিদে দেখে অনেক খুশি লাগছে। তিনি নিজের আকস্মিক পরিবর্তনের পেছনকার অনুভূতির কথা বলতে গিয়ে মোবাইল ফোন বের করলেন। একটা স্ক্রিনশট দেখালেন, যেখানে লেখা আছে- ‘কবরস্থানে নীরবে নিভৃতে শুয়ে আছেন এমন অনেক মানুষ, যাদের আগামীকাল নামাজ শুরু করার কথা ছিল।’
কী ‘পাওয়ারফুল’ কথা! একেবারে কলিজায় গিয়ে ধাক্কা লাগে। এই একটা কথাই তাঁকে পরিবর্তন করেছে, সালাতে অন্তঃপ্রাণ বানিয়েছে।
একটা বাক্যও মানুষকে পরিবর্তন করে দিতে পারে! একটি বাক্য, শুধু একটি বাক্য। সুবহানাল্লাহ!
মেঘ রোদ্দুর বৃষ্টি
ঘটনাবহুল জীবনের পরতে পরতে ছড়িয়ে থাকে গল্প। কিছু গল্প আনন্দের, কিছু বেদনার। দুঃখ-হাসির গল্পগুলো জীবনের নিয়ম মেনে ঘটে যায়। শিখিয়ে দিয়ে যায় জীবনবোধের পাঠ; বাতলে দিয়ে যায় বদলে যাওয়ার সূত্র। রৌদ্রময়ীদের এরকম একঝুলি গল্প-সমাহারের নাম ‘মেঘ রোদ্দুর বৃষ্টি’।
শেষ রাত্রির গল্পগুলো
শেষরাত্রির গল্পগুলো প্রচলিত অর্থে কোনো গল্পগ্রন্থ নয়। বলা যেতে পারে একটি গল্পের আসর। এই আসরে লেখক ও পাঠক পরস্পর গল্প করবেন। গল্প করতে করতে আনমনা হবেন। গল্প করতে করতেই চিন্তা-প্রতিচিন্তায় ঋদ্ধ হবেন এই বইয়ের উল্লেখযোগ্য-সংখ্যক প্রবন্ধগল্প লেখকের ব্যক্তিজীবন-ঘনিষ্ঠ। জীবন থেকে নেওয়া ছোট-বড় অভিজ্ঞতা, ভাবনা ও অনুভূতি এখানে মূর্ত হয়েছে একটু ভিন্ন আঙ্গিকে। সময়, বিষয়বস্তু, পূর্বাপর প্রেক্ষাপট ও উদ্দীষ্ট পাঠকের মনস্তত্ত্ব—এসবকিছু বিবেচনায় রাখলে প্রতিটি লেখা তার নিজস্ব ধাঁচেই বিশিষ্ট, নিজস্ব ছকেই স্বতন্ত্র। তাই বৈচিত্র্য লোপ না করে লেখাগুলোর চেহারা ও মেজাজ অক্ষুণ্ন রাখা হয়েছে এই বইয়ে। লেখাগুলোর ধরন ও প্রকৃতিতে বৈচিত্র্য আছে। কখনো হালকা চালে গল্পনির্ভর লেখা, কখনো তথ্যসূত্র ও টীকা-টিপ্পনীতে ভরপুর পুরোদস্তুর অ্যাকাডেমিক লেখার মতোই। কখনো চোখে পড়বে প্রবন্ধের মোড়কে গল্প বলার কোশেশ। অথবা গল্পের আবহে প্রবন্ধের অবতারণা।
সবুজ রাতের কোলাজ
নজীবের সাথেপরিচয় তাঁর কবিতার মাধ্যমেই। যেদিন তাঁর কবিতা পড়ি, সেদিন অস্ফুটে বলে উঠেছিলাম—”আমরা পেয়ে গেছি আমাদের নতুন আল মাহমুদ। আমাদের নতুন ফররুখ আহমদ।” আমি নজীবের কবিতার একজন একনিষ্ঠ ভক্ত। আমি এবং আমরা যে রেঁনেসার স্বপ্ন দেখি, সেই রেঁনেসায় নজীবের ভূমিকা হবে বিশাল কিছু। আমি দেখতে পাই—একটি সবুজ দেশ। একদল তরুণ আলোর মশাল হাতে এগিয়ে যাচ্ছে। নজীব তাদের নেতৃত্বে।নজীদের তৃতীয় কাব্যগ্রন্থ সবুজরাতের কোলাজ। যখন শুনলাম আমাকেই বইটার ভূমিকা লিখতে হবে, চিন্তায় পড়ে গেলাম। আমরা কী সাধ্য আছে তাঁর প্রতিভার, তাঁর কাজের কয়েকটি শব্দে মূল্যায়ন করার? নজীবের অন্যান্য কবিতার বইয়ের মতো এ বইয়েও স্থান পেয়েছে তাঁর বেশকিছু অনন্য অসাধারণ কবিতা। এতে আল আকসা নিয়ে কবিতা আছে, নাইয়র কাব্য, আমি কেন কবি, আমি যেদিন বাবা হবো নামে আছে দুর্দান্ত সব কবিতা। আমি আশাবাদী, কবিতাগুলো পাঠকদের হৃদয় ছুঁয়ে যাবে, ইনশাআল্লাহ্।’-আরিফ আজাদ