Filter by price
Showing all 8 results
আল্লাহর প্রিয় বান্দাদের আমল
অল্প আমলে অধিক সাওয়াব পেতে কে না চায়! আল্লাহর প্রিয় বান্দা হতে কার না ইচ্ছে করে! অথচ অধিকাংশ মুসলিমই জানে না, কীভাবে বুদ্ধি খাটিয়ে আমল করতে হয়; কোন সময় কোন আমলগুলো করলে সারারাত ঘুমিয়েও পাওয়া যায় তাহাজ্জুদের সাওয়াব, হজে না গিয়েও মিলে পূর্ণ হজের নেকি, শহিদ না হয়েও লাভ করা যায় শাহাদাতের মর্যাদা।
আল্লাহ তাআলা ইবাদতের ক্ষেত্রে এমনসব সুযোগের ব্যবস্থা করে রেখেছেন, যাতে আমরা সীমিত সময়ে এবং কম পরিশ্রমে নিজেদের আমলনামায় যুক্ত করতে পারি পাহাড়সমান সাওয়াব; পাপের সাগরে যা হবে আমাদের নাজাতের তরি। হাশরের ময়দানে সাওয়াবে ভরপুর আমলনামা দেখে নিজেরাই হয়ে যাব বিস্মিত।
এজন্য জীবনকে আমলের মাধ্যমে পরিপূর্ণ করে তুলতে এবং আল্লাহর আরও বেশি নৈকট্যপ্রাপ্ত বান্দা হতে আমাদের এবারের আয়োজন—‘আল্লাহর প্রিয় বান্দাদের আমল’।
খুশূ খুযূ
সালাতে দাঁড়ালেই কেমন যেন উথালপাথাল করে মন। বিক্ষিপ্ত ভাবনায়, বিচ্ছিন্ন চিন্তায় আবদ্ধ হয় মনোযোগের সমস্ত আয়োজন। কেন যেন সালাতে দাঁড়ালেই আমরা ভীষণ ব্যস্ত হয়ে পড়ি। যে মহান বাদশাহর দরবারে হাত পাতব বলে জায়নামাজ বিছাই, খানিক বাদে সেই জায়নামাজ মুখরিত হয় আমাদের অন্তরের সব অবান্তর কলরবে। যার কাছে নত করি শির, সেই শির যদি ডুবে থাকে দুনিয়াবি মগ্নতায়, করুণা লাভের প্রত্যাশা সেখানে অলীক স্বপ্নের নামান্তর মাত্র।
বৃক্ষের সঞ্জীবনী শক্তি এবং জমির উর্বরা শক্তির মতো আমাদের সালাতেরও প্রয়োজন পর্যাপ্ত প্রাণশক্তি। সূর্য যেমন উদ্ভিদে খাদ্যের জোগান দেয়, বৃষ্টিকণা যেভাবে মাটিতে সজীবতা ছড়িয়ে দেয়, অক্সিজেন যেমনি করে দেহের মাঝে বইয়ে দেয় প্রাণের স্ফুরণ, ঠিক সেভাবে সালাতকে জীবন্ত করে তুলতে প্রয়োজন হৃদয়ের একান্ত আকুতি। সেই আকুতির খোঁজে, অন্তরের সেই সঞ্জীবনী শক্তির সন্ধানে আমাদের এবারের নিবেদন ‘খুশুখুযূ’।
গুনাহ মাফের উপায়
পানির স্পর্শে লোহায় যেমন জং ধরে, মরিচা পড়ে, গুনাহের ফলেও আমাদের অন্তরে ময়লা জমে, আত্মায় বিরাজ করে পঙ্কিলতা। মরিচা লোহাকে যেভাবে ভঙ্গুর বানিয়ে দেয়, পাপের আস্তরণ ঠিক একইভাবে আমাদের অন্তরকে করে ফেলে শুষ্ক, শক্ত ও অনুভূতিহীন। কাপড়ে ময়লা জমলে আমরা তা ধুয়ে পরিষ্কার করি; ফেলে দিই না। ক্ষুধা পেলেও আমরা খাবার গ্রহণ করি; ক্ষুধার্ত থাকি না। অথচ গুনাহের বেলায় এর ঠিক বিপরীতটাই আমরা করে থাকি।
আমরা মনে করি, গুনাহ করে ফেললে বুঝি আমাদের আর পরিত্রাণ নেই। অথচ আসমানে যিনি আছেন, তিনি রাহমানুর রাহিম। অপার দয়ার ভান্ডার সমেত তিনি তাকিয়ে আছেন—কোন বান্দা তাঁর কাছে ক্ষমা ভিক্ষা করছে, তাঁর কাছে আশ্রয় চাইছে, তাঁর কাছে করজোড়ে প্রার্থনা করছে। তিনি অপেক্ষা করেন অনুতপ্ত হৃদয়ের জন্য, অশ্রুসিক্ত দুটো চোখের জন্য, কাঁপা কাঁপা দুটো হাত আর একটি নত মস্তকের জন্য। অতঃপর তিনি তাদের ক্ষমা করেন।
যেসব উপায় অবলম্বন করলে আমাদের অন্তর পরিশুদ্ধ হবে, যে আমলগুলো করলে আমাদের আত্মা কলুষমুক্ত হবে—সেসব নিয়েই রচিত হয়েছে ‘গুনাহ মাফের উপায়’ বইটি।
জান্নাতিদের আমল
আমাদের জীবন খুবই সংক্ষিপ্ত। ছোট্ট এই জীবনে চাইলেও আমরা খুব বেশি আমল করতে পারি না। আর তাই আল্লাহ তাআলা আপন অনুগ্রহে আমাদের জন্য বিপুল সাওয়াব অর্জনের সুযোগ করে দিয়েছেন। আমরা যদি একটু বুদ্ধি খাটিয়ে, একটু ভেবেচিন্তে, বিশেষ কিছু আমল নিয়মিত করতে পারি, তাহলে অল্প সময়ের ব্যবধানে আমাদের নেকির পাল্লা অনেক বেশি ভারী হয়ে উঠবে। হাশরের ময়দানে যখন কেউ কাউকে চিনবে না, তখন এই আমলগুলোই হবে আমাদের একমাত্র সম্বল, জাহান্নাম থেকে মুক্তি পাওয়ার অন্যতম অসিলা।
‘জান্নাতিদের আমল’ বইটির পাতায় পাতায় বর্ণিত হয়েছে হাজারো আমলের কথা। যেসব আমলের মাধ্যমে মিলবে আল্লাহর সন্তুষ্টি ও নৈকট্য, রাতে ঘুমিয়ে থেকেও অর্জন করা যাবে তাহাজ্জুদের সাওয়াব, শহিদ না হয়েও লাভ করা যাবে শহিদি মর্যাদা, কবরের আজাব থেকে মিলবে চিরমুক্তি, হাশরের ময়দানে আরশের ছায়া, প্রিয় নবিজির সুপারিশ এবং আরও কত কি!
জিলহজের উপহার
বছরের এক মহিমান্বিত মাস জিলহজ। নবি ইবরাহিম আলাইহিস সালাম স্বপ্নযোগে আদিষ্ট হলেন—কুরবানি করতে হবে প্রিয়তম পুত্রকে। মহান রবের আদেশ পালনে তিনি এতটুকু বিচলিত হননি। কোনো ভয়, কোনো সংশয় দানা বাঁধতে পারেনি তার অন্তরে। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করেই শুরু হয় কুরবানি।
শুধু তা-ই নয়, প্রতি বছর জিলহজে লাখো লাখো মুসল্লি হাজির হয় কাবাঘরের প্রাঙ্গণে। তারা অবস্থান করে মিনায়; ছুটে বেড়ায় সাফা-মারওয়ায়। এ সকল কারণে জিলহজের গুরুত্ব আর ফজিলত মুসলিমদের কাছে অপরিমেয়। এমন পবিত্র একটি মাসে রয়েছে বিশেষ কিছু আমল এবং নির্দিষ্ট কিছু রীতিনীতি। সেসব নিয়েই আমাদের এবারের আয়োজন ‘জিলহজের উপহার’।
হাইয়া আলাস সালাহ
হৃদয় যখন পাপসাগরে নিমজ্জিত, জীবন যখন থমকে দাঁড়ায় হতাশার বালুচরে কিংবা ক্লান্তি এসে ভিড় করে মনের আঙিনায়, তখন মুয়াজ্জিনের এক চিলতে বিনীত আহ্বান—হাইয়া আলাস সালাহ—আমাদের অন্তরাত্মা কাঁপিয়ে দেয়, ভেতর থেকে যেন বলতে চায়, ‘এসাে কল্যাণের পথে, এসাে এক সুন্দর আগামীর পথে। প্রতিদিনকার একাগ্র সালাতে শুকিয়ে যেতে শুরু করে হৃদয়ের সব ক্ষত৷ চোখের সমুখে চিরচেনা পৃথিবী উন্মােচিত হয় নতুন রূপে৷ মহান স্রষ্টার প্রতি আশা-ভরসা বেড়ে যায় বহুগুণে। শূন্যতার জীর্ণ অনুভূতি ঢেকে যায় সবুজ কোমল ঘাসে৷ কষ্টের নীলাভ জলরাশি বাষ্প হয়ে উড়ে যায় ঐ দূর আকাশে।
হিসনুল মুসলিম
দৈনন্দিন জীবনের প্রতিটি কাজের শুরু ও শেষে নবিজি বিভিন্ন দুআ পড়তেন। নবিজির মুখ-নিঃসৃত এসব দুআ আল্লাহর নিকটও অনেক প্রিয়। নবিজির দুআগুলোতে আল্লাহর মহত্ত্ব নিজের ক্ষুদ্রত্ব এবং আল্লাহর সাহায্যের আকাঙ্ক্ষা অসম্ভব ব্যগ্রতায় বাঙ্ময় হয়ে উঠেছে। আল্লাহর কাছে নিজেদের প্রয়োজন তুলে ধরতে নবিজির মাকবুল দুআগুলো হতে পারে আমাদের সর্বোত্তম অবলম্বন। হাদিসে বর্ণিত বিশুদ্ধ দুআগুলো একসাথে ওঠে এসেছে এই বইয়ে। সর্বদা হাতের কাছে রাখার মতো দরকারি একটি বই এটি। যেসব দুআ আমাদের দৈনন্দিন জীবনে সবচে বেশি ব্যবহৃত, এই বইয়ে সেগুলো বিশেষভাবে স্থান পেয়েছে। এই দুআগুলোর পাঠ ও চর্চার মধ্য দিয়ে আমাদের জীবন আরো বিনীত নিবেদিত এবং মার্জিত হয়ে উঠবে, ইনশাআল্লাহ।
হৃদয় জুড়ানো সালাত
খুশুখুযু হলো সালাতের প্রাণ। খুশুখুযুহীন সালাত যেন যান্ত্রিক ওঠাবসা ছাড়া কিছু নয়। দুঃখজনক হলেও সত্য, আমাদের সালাত থেকে খুশুখুযু হারিয়ে গেছে। ফলে আমাদের জীবন থেকে হারিয়ে গেছে সালাতের সেই প্রভাবও। উদাসীনতার তলদেশে হারিয়ে যাওয়া সেই খুশুখুযু ফিরিয়ে আনতেই আমাদের এবারের পরিবেশনা। সালাতের প্রতিটি পর্বে খুশুখুযু ধরে রাখার অব্যর্থ সব কলাকৌশলে সমৃদ্ধ ‘হৃদয়জুড়ানো সালাত’ বইটি। এ বই পাঠের পর আমাদের সালাতে আসবে কাঙ্ক্ষিত পরিবর্তন, ইনশাআল্লাহ।